বাংলাদেশে রাজস্ব আদায়ের কাঠামো সমসাময়িক উন্নত ও উন্নয়নশীল দেশ মালয়েশিয়া ও থাইল্যান্ডের রাজস্ব কাঠামোর সম্পূর্ণ বিপরীত বলে মন্তব্য করেছেন পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউট অব বাংলাদেশের (পিআরআই) প্রধান অর্থনীতিবিদ ড. আশিকুর রহমান। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশে রাজস্ব আয়ের দুই-তৃতীয়াংশ আসে পরোক্ষ কর থেকে, আর বাকি এক-তৃতীয়াংশ পূরণ হয় প্রত্যক্ষ কর থেকে। এই এক-তৃতীয়াংশের একটি অংশ রিগ্রেসিভভাবে (প্রত্যাবর্তীভাবে) আমদানি থেকে আদায় করা হয়। ফলে প্রত্যক্ষ করের অবদান আরো কমে যাচ্ছে। অথচ বাংলাদেশের সমসাময়িক রাষ্ট্র মালয়েশিয়া ও থাইল্যান্ডে পরোক্ষ করের তুলনায় অনেক বেশি রাজস্ব আসে প্রত্যক্ষ কর থেকে। এসব দেশে রাজস্ব আদায়ের অনুপাত বাংলাদেশের সম্পূর্ণ বিপরীত—প্রত্যক্ষ কর থেকে আসে ৭০-৭৫ শতাংশ, আর পরোক্ষ কর থেকে বাকি ২০ শতাংশ।’
গতকাল পিআরআই আয়োজিত ‘মাসিক সামষ্টিক অর্থনৈতিক দূরদৃষ্টি: বাজেট-পরবর্তী পর্যালোচনা’ শীর্ষক এক সভায় তিনি এসব কথা বলেন। সেন্টার ফর ম্যাক্রোইকোনমিক অ্যানালাইসিস (সিএমইএ) এবং অস্ট্রেলিয়ার ডিপার্টমেন্ট অব ফরেন অ্যাফেয়ার্স অ্যান্ড ট্রেডের (ডিএফএটি) সহযোগিতায় এ সভার আয়োজন করা হয়।
সভায় পিআরআইয়ের চেয়ারম্যান ড. জাইদী সাত্তারের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি ছিলেন প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী (সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়) শেখ মইনউদ্দিন। বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশে নিযুক্ত অস্ট্রেলীয় ডেপুটি হেড অব মিশন ক্লিনটন পবকে।
সভায় ড. জাইদী সাত্তার বলেন, ‘অনুমোদিত বাজেটে কোনো বাণিজ্যনীতি সংস্কার করা হয়নি, যা ২০২৬ সালের নভেম্বরে দেশের এলডিসি উত্তরণ এবং ইউএসটিআরের পারস্পরিক শুল্কের দাবির চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ হারানোর সমান।’
সভায় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন পিআরআই নির্বাহী পরিচালক ড. খুরশিদ আলম, বিজনেস ইনিশিয়েটিভ লিডিং ডেভেলপমেন্টের (বিল্ড) প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ফেরদৌস আরা বেগম এবং ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সাবেক সভাপতি রিজওয়ান রহমানসহ অর্থনীতিবিদ, গবেষক, কূটনৈতিক ও বেসরকারি শিল্পের প্রতিনিধিরা।